Pagla Hawar Badol Raate

একটা ১৫ তলা বাড়ির ১৩ তলার ঘরে বসে আছি – চোখ দুটো এখন জানালার বাইরে আর লেখার দিকে লুকোচুরি খেলছে।

আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি – কাঁচের জানালার গায়ে বৃষ্টি ও হাওয়ার আছড়ে পরার শব্দ।

দুরে সবকিছু অস্পষ্ট হয়ে গেছে অনেকক্ষণ আগেই – শুধু ওই একটানা আওয়াজ হয়েই যাচ্ছে।

মত্ত হাওয়া আর পাগলা বৃষ্টির দাপট বেড়েই চলেছে – মনে হচ্ছে যেন আজ ওরা ওই মোটা কাঁচের জানালার ফেঁটে চৌচির না হয়ে যাওয়া অব্দি থামবে না।

দ্বন্দ-যুদ্ধ চলছে। কে জেতে কে হারে?

আমি বসে আছি ঠিক জানালার পাশ ঘেষে – চেয়ারটা মাঝে মাঝে ঘুরিয়ে বাইরে টা দেখে নিচ্ছি আর চুমুক দিচ্ছি কফির কাপে।

হাসি পাচ্ছে। পুরো উপন্যাসের মতন হয়ে যাচ্ছে ব্যাপারটা।

উঁচু বাড়ি – কাঁচের জানালা – ঝড়ো হওয়া – উদ্দাম বৃষ্টি – কফির কাপ – আর সামনে খোলা খাতা-পেনের জায়গায় কম্পুটার।

খালি অন্ধকার ঘর আর নিচু আওয়াজের কোনো সঙ্গীতের সুর মূর্ছনা থাকলেই ষোলোকলা পূর্ণ হত।

ন্যাকামির একটা সীমা আছে –

কাকে বোকা বানাচ্ছি, কেনই বা করছি – জানি না; সত্যিই জানি না।

মুহুর্তের সামান্য একটা ঘটনা – একটু কথা কাটা-কাটি আর কোথা থেকে কি হয়ে গেল।

সত্যিই কি এর কোনো প্রয়োজন ছিল (এন্টনি ফিরিঙ্গী!) – শুধু জামাকাপড় পরলেই যে মানুষ হওয়া যায় না তা কাল আমি আরেকবার প্রমাণ করলাম।

নিজের মূর্খামির ফল ভোগ করছি এখন নিজেই।

আয়নার সামনে দাড়িয়ে – নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে যাচ্ছি কাল থেকে – কি পেলাম? পাচ্ছি?

নিজেরও কষ্ট – অন্যদেরও অশান্তিতে রাকছি।

আমি সত্যিই এরকম হোক চাইনি। আমার ধৈর্য্য ও স্থৈর্য্য – এই দুটি বাড়াতে হবে। আরো সহানুভূতিশীল হতে হবে।

আমি তাড়াহুড়ো করছি – ওভাবে কিছু হয় না – হয় নি – হতে পারে না। আরো সময় দিতে হবে – বোঝার ও বোঝানোর ওপর আরো যত্নবান হতে হবে।

মাথা গরম করে কাজ পন্ড হয় – আর কিছুই হয় না। যুক্তি দিয়ে, মমতা দিয়ে (ভালবাসা দিয়ে!) সম্পর্কগুলোকে আরো শক্ত-পোক্ত করে তুলতে হবে – হবেই।

সময় – সময় – সময় – আরো সময় দিতে হবে। এইভাবে কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তাতে হিতে বিপরীত হবে।

কি হাবি-যাবি লিখছি? উল্টো-পাল্টা বকছি। না, কাল থেকে চেপে রাখা কথা গুলো লিখতে পেরে এখন অনেকটা হালকা লাগছে।

ভালই হলো – আবহওয়া টাই আজ আমায় সাহায্য করলো।

আমি জানি – সে পড়বে (আবার নাও পারে!), কিন্তু তাও লিখে রাখছি, নিজের জন্যে।

ফাইট কোনি ফাইট!

বৃষ্টি-হাওয়া – এই দুটোরই তেজ একটু কমে এসেছে এতক্ষণে। দুরের ঝাপসা হয়ে যাওয়া আলোগুলো আবার স্পষ্ট হয়ে উঠছে আস্তে আস্তে।

একটা মেসেজ এলো ফোনে – কে জানে ও কিনা? দেখি গিয়ে………………..

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s